`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

কক্সবাজারের ইনানী বনে বিরল মেঘলা চিতার সন্ধান, মিলেছে আরও ২১ প্রজাতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 10, 2026 ইং
কক্সবাজারের ইনানী বনে বিরল মেঘলা চিতার সন্ধান, মিলেছে আরও ২১ প্রজাতি ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে প্রথমবারের মতো বিরল মেঘলা চিতার উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা। ক্যামেরা ট্র্যাপে প্রাণীটির পাঁচটি ছবি ধরা পড়েছে। একই গবেষণায় মেঘলা চিতাসহ মোট ২২ প্রজাতির বন্য প্রাণীর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।


এ মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১৩ মাস ধরে কক্সবাজারের একটি সংরক্ষিত বনে পরিচালনা করা হয়। এতে বন অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব গেটিনজেনের গবেষকরা অংশ নেন।


বন অধিদপ্তরের বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের পরিচালক বিপুল কৃষ্ণ দাস জানান, ইনানী জাতীয় উদ্যানের ৩২টি স্থানে ১৫টি ক্যামেরা স্থাপন করে বন্য প্রাণীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। তিনটি ক্যামেরায় মেঘলা চিতার পাঁচটি ছবি পাওয়া যায়। পাশাপাশি পায়ের ছাপ ও মল বিশ্লেষণ করেও প্রাণীটির উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।


গবেষণায় মেঘলা চিতার পাশাপাশি এশিয়ান হাতি, মুখপোড়া হনুমান, উল্টোলেজি বানর, লজ্জাবতী বানর, রেসাস মেকাক, শজারু, বনবিড়াল, চিতা বিড়াল, মায়া হরিণ, গন্ধগোকুল, শিয়াল, বিভিন্ন প্রজাতির খাটাশ, কাঠবিড়ালি, বেজি ও বাদুড়সহ আরও বন্য প্রাণীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনানী জাতীয় উদ্যানে মেঘলা চিতার উপস্থিতি সেখানকার কিছু এলাকায় এখনো তুলনামূলক সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র টিকে থাকার ইঙ্গিত দেয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, উদ্যানের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকা মেঘলা চিতার বসবাসের উপযোগী। তবে মানুষের বসতি, বনভূমি দখল, গাছ কাটা, রোহিঙ্গা শিবিরের সম্প্রসারণ এবং কৃষিজমির জন্য বনভূমিতে অনুপ্রবেশের কারণে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়েছে।


গবেষকদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে বনভূমি দখল ও অনুপ্রবেশ বন্ধ করা, পাহাড়ি ছড়া ও খাল সুরক্ষিত রাখা এবং উদ্যানের চারপাশে বাফার জোন তৈরি করা। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষকে সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ উদ্যোগ না নিলে ইনানীসহ উপকূলীয় বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
টানা বর্ষণ ও আকস্মিক ঝড়ে লণ্ডভণ্ড নাজিরারটেক শুটকি পল্লী, ক্

টানা বর্ষণ ও আকস্মিক ঝড়ে লণ্ডভণ্ড নাজিরারটেক শুটকি পল্লী, ক্