বর্ষা মৌসুমে সাগর উত্তাল হওয়া কিংবা ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি হলেই বন্ধ হয়ে যায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথ। এতে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। নৌ যোগাযোগ বন্ধ থাকায় খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে সাগরে মাছ ধরতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়েন জেলেরা। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার অর্ধাহার-অনাহারের পরিস্থিতিতে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৈরি আবহাওয়ায় উত্তাল সাগরের কারণে নৌ চলাচল বন্ধ হলে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্বীপের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেন্টমার্টিনে নৌপথই যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হওয়ায় কয়েক দিন নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলেই দ্বীপবাসীর দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়।
বর্ষা মৌসুমে তীরে ভেড়ানো শত শত মাছ ধরার ট্রলার এবং কর্মহীন মৎস্যজীবীদের নীরব অপেক্ষার দৃশ্য এখন দ্বীপের পরিচিত চিত্র। উত্তাল সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় তাদের আয়-রোজগারও বন্ধ থাকে। ফলে জীবিকার তাগিদে ইতোমধ্যে বহু পরিবার দ্বীপ ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থাও সীমিত সেন্টমার্টিনে। দ্বীপে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুতের জন্য নেই প্রয়োজনীয় খাদ্যগুদাম। ফলে নৌ চলাচল বন্ধ হলে নতুন করে খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। টানা কয়েক দিন নৌ যোগাযোগ বন্ধ থাকলেই দ্বীপে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দেয়।
শুধু খাদ্য সংকট নয়, গুরুতর অসুস্থ রোগী কিংবা দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দ্রুত মূল ভূখণ্ডে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় উত্তাল সাগর। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্বীপে চিকিৎসকের সংকট রয়েছে এবং অনেক সময় প্রয়োজনের মুহূর্তে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মানুষের হাতে আয় না থাকায় দোকানপাটেও বিক্রি কমে গেছে। অনেক সময় এক হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হলেও তার বড় অংশ বাকিতে দিতে হয়। এ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে ছোট ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, জীবিকার তাগিদে ইতোমধ্যে প্রায় আড়াইশ পরিবার সেন্টমার্টিন ছেড়েছে। দুর্যোগকালীন সংকট মোকাবিলায় দ্বীপে স্থায়ী খাদ্যগুদাম নির্মাণ এবং জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় আইনজীবী কেফায়েত উল্লাহ খান বলেন, তিন থেকে পাঁচ দিন নৌ চলাচল বন্ধ থাকলেই দ্বীপবাসী খাদ্য সংকটে পড়েন। একটি স্থায়ী খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হলে অন্তত দুর্যোগের সময় মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
এদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, দ্বীপবাসীর সমস্যা ও সেন্টমার্টিনের অস্তিত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করা হবে। দ্বীপের মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।
প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। দ্বীপবাসীর জীবিকার একটি বড় অংশ পর্যটন ও মৎস্যনির্ভর হলেও বর্ষা মৌসুমের বৈরি আবহাওয়া তাদের জীবন ও জীবিকায় প্রতি বছরই নতুন সংকট তৈরি করছে।
BanglaDock