কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও খালের পাড়ের গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। সরকারি জায়গার গাছ ব্যক্তিগত সম্পত্তি দাবি করে কেটে নেওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সড়কের পাশে ছায়াদার গাছ কমে যাওয়ায় তীব্র রোদে চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কসংলগ্ন কিংবা খালের ওপারে জমি ও বাড়িঘর থাকা কিছু ব্যক্তি সরকারি জায়গার গাছ নিজেদের দাবি করে কেটে বিক্রি করছেন। দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা না করেই অপরিণত গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। একসময় পেকুয়ার গ্রামীণ ও প্রধান সড়কের দুই পাশে সারি সারি গাছ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেই সবুজ পরিবেশ হারিয়ে যাচ্ছে।
শিলখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ রিয়াজের অভিযোগ, খালের পাড়ের বেশ কয়েকটি বড় গাছ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি কেটে ফেলেছেন। এসব গাছ এলাকাবাসীকে ছায়া দিত। তাঁর দাবি, জনপ্রতিনিধিরা নিয়মিত ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করলেও গাছ কাটার ঘটনায় প্রতিবাদ করেননি।
শিলখালী উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অহিন জানায়, তীব্র রোদে স্কুলে যাতায়াত করতে তার কষ্ট হয়। সব সময় যানবাহনও পাওয়া যায় না। তাই সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানোর দাবি জানিয়েছে সে। পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মুজাহিদও সড়কের পাশে পর্যাপ্ত গাছ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানিয়েছে।
পেকুয়ার বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খাইরুল আলম জানান, চলতি অর্থবছরে সড়ক ও খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণের বিষয়টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এলজিইডি) দেওয়া হয়েছে। এলজিইডি চারা রোপণ করলে বন বিভাগ চারা সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণেও সহায়তা দেওয়া হবে।
এলজিইডির পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল হোছাইন বলেন, নতুন প্রকল্পে সড়কের পাশে গাছ লাগানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সড়ক সংস্কার ও নতুন সড়ক নির্মাণের সময় পাশে গাছ লাগানো হবে।
তিনি আরও বলেন, ইচ্ছামতো গাছ কাটার সুযোগ নেই। গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। বন বিভাগ কোনো গাছকে পরিপক্ব হিসেবে চিহ্নিত করলে কেবল সেটি কাটার সুযোগ রয়েছে। নিয়ম অমান্য করে গাছ কাটলে তা আইনবহির্ভূত হবে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। যারা গাছ কেটেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
BanglaDock