`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

এআইয়ের ক্যামেরায় ফিরে এসেছে আশির দশক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 9, 2026 ইং
এআইয়ের ক্যামেরায় ফিরে এসেছে আশির দশক ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

পুরোনো অ্যালবামের মতো দেখতে ছবি। আশির দশকের পোশাক, সেই সময়ের চুলের স্টাইল, ফিকে রঙ আর পুরোনো দিনের রাস্তা—সবকিছুই যেন চার দশক আগের কোনো স্মৃতি। তবে এসব ছবি বাস্তবে আশির দশকে তোলা নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে তৈরি হচ্ছে এমন দৃশ্য।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকে এ ধরনের ছবির ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। অনেকে নিজেদের ছবি ব্যবহার করে আশির দশকের আবহ তৈরি করছেন। কেউ নিজেকে দেখছেন সেই সময়ের পোশাকে, কেউ ফিরছেন পুরোনো পরিচিত রাস্তায়। আবার কেউ বন্ধু, ভাই-বোন কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এমন ছবি তৈরি করছেন, যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই ছিল না।


প্রযুক্তির ভাষায় এগুলো এআই জেনারেটেড ইমেজ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছে এগুলো যেন হারানো সময়কে ফিরে পাওয়ার এক অভিনব উপায়।


আশির দশকের প্রতি আগ্রহের পেছনে কাজ করছে নস্টালজিয়া। অনেকের কাছে এই সময় মানে ক্যাসেট, ভিসিআর, ফিল্ম ক্যামেরা, বড় চুল, রঙিন শার্ট, পুরোনো সিনেমার পোস্টার, পাড়ার দোকান আর দীর্ঘ আড্ডা। সেই সময়ের সীমিত প্রযুক্তি ও স্বতন্ত্র দৃশ্যমান সংস্কৃতিই এখন নতুন করে আকর্ষণ তৈরি করছে।


বর্তমানের অত্যন্ত পরিষ্কার ও নিখুঁত ডিজিটাল ছবির বিপরীতে আশির দশকের ছবির কৃত্রিম অসম্পূর্ণতাও অনেকের কাছে আকর্ষণীয়। ছবিতে সামান্য গ্রেইন, পুরোনো ক্যামেরার আলো, বিবর্ণ রঙ কিংবা ফিল্মের দাগ—এসবই এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।


এই প্রবণতা শুধু আশির দশকে বেড়ে ওঠা মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নেই, এমন তরুণরাও রেট্রো সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে এখানে বাস্তব স্মৃতির পাশাপাশি কল্পিত স্মৃতিও কাজ করছে।


এআই দিয়ে পুরোনো দিনের ছবি তৈরি করতে সাধারণত একটি ছবি ও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। যেমন—আশির দশকের পোশাক, পুরোনো ফিল্ম ক্যামেরার লুক, সেই সময়ের রাস্তা, ঘরের সাজ, আলো ও রঙের ব্যবহার। এরপর এআই মুখের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ধরে রেখে পোশাক ও আশপাশের দৃশ্য নতুনভাবে তৈরি করে। ফলে একজন মানুষকে এমন একটি সময়ে বসানো যায়, যখন তিনি বাস্তবে সেখানে ছিলেন না।


তবে এ ধরনের ছবি ছবির সত্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্নও তৈরি করছে। একসময় কোনো ঘটনার দৃশ্যমান প্রমাণ হিসেবে ছবি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু জেনারেটিভ এআই এখন এমন ছবি তৈরি করতে পারে, যেখানে মানুষটি কখনো ছিলেন না বা ঘটনাটিই ঘটেনি। অথচ ছবিটি এতটাই বাস্তবসম্মত হতে পারে যে সাধারণ চোখে পার্থক্য করা কঠিন।


এ কারণেই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই-তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত ও লেবেল করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। মেটা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডসে এআই-তৈরি ছবি শনাক্ত হলে ‘এআই ইনফো’ লেবেল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ছবিটি সুন্দর কি না, তার পাশাপাশি ছবিটি সত্য কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স