মঙ্গল গ্রহের একটি ছবিতে জেলিফিশের মতো রহস্যময় অবয়ব দেখা যাওয়ার পর মহাকাশপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কেউ এটিকে ভিনগ্রহের কোনো জীব বা বস্তু বলে দাবি করলেও বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে অতিপ্রাকৃত কিছু হিসেবে দেখছেন না।
নাসার কিউরিওসিটি রোভার ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট মঙ্গলের গেইল ক্র্যাটার এলাকায় ছবিটি তোলে। ছবির এক পাশে পাহাড় ও পাথুরে পটভূমির সামনে দুটি পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অস্পষ্ট একটি অবয়ব দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অবয়বটির আকৃতি দেখে কেউ কেউ একে জেলিফিশের মতো কোনো প্রাণী, ভিনগ্রহের বস্তু কিংবা প্রাচীন কোনো যান্ত্রিক কাঠামো বলে দাবি করছেন। এমনকি জনপ্রিয় সায়েন্স ফিকশন সিনেমা ‘ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডস’-এর এলিয়েন ট্রাইপডের সঙ্গেও এর তুলনা করা হচ্ছে।
তবে ছবিটি তোলার এক মিনিট আগের একই এলাকার ছবিতে এমন কোনো অবয়ব দেখা যায়নি। এ কারণে বিষয়টি আরও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ছবির রহস্যময় আকৃতিটি ক্যামেরার সেন্সর ত্রুটি, পিক্সেলের বিকৃতি কিংবা সাময়িক কোনো কারিগরি সমস্যার ফল হতে পারে। এ ধরনের অস্পষ্ট ছবিতে মানুষের মস্তিষ্ক পরিচিত কোনো আকৃতি খুঁজে নেওয়ার প্রবণতাকে ‘প্যারেডোলিয়া’ বলা হয়।
এর আগেও মঙ্গলের একটি পাহাড়কে মানুষের মুখের মতো দেখিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। পরে উচ্চ রেজল্যুশনের ছবিতে দেখা যায়, আলো-ছায়া ও ছবির মানের কারণে ওই বিভ্রম তৈরি হয়েছিল।
কেউ কেউ ছবির বস্তুটিকে নাসার ইনজেনুইটি মার্স হেলিকপ্টার বলেও দাবি করেছেন। তবে নাসার তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি তোলার সময় ইনজেনুইটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে ভিন্ন একটি ক্র্যাটারে অবস্থান করছিল। ফলে রহস্যময় অবয়বটি হেলিকপ্টার হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
BanglaDock