গত দেড় দশকে স্মার্টফোনের বিশ্ববাজারে এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০১০ সালে বাজারে আধিপত্য ছিল নোকিয়া ও ব্ল্যাকবেরির মতো ব্র্যান্ডের। ২০২৫ সালে সেই জায়গা দখল করেছে অ্যাপল, স্যামসাং এবং চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। এ সময়ে বিশ্বে স্মার্টফোনের বার্ষিক শিপমেন্ট প্রায় ৩০ কোটি ২৬ লাখ থেকে বেড়ে ১২৬ কোটিতে পৌঁছেছে।
Visual Capitalist-এর এক প্রতিবেদনে ২০১০ ও ২০২৫ সালের স্মার্টফোন বাজারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ২০১০ সালে ৩৩ দশমিক ১ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে শীর্ষে ছিল নোকিয়া। ১৬ দশমিক ১ শতাংশ হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ব্ল্যাকবেরির মূল প্রতিষ্ঠান রিসার্চ ইন মোশন (RIM)। ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ হিস্যা নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল অ্যাপল। অন্যদিকে স্যামসাং ও এইচটিসির বাজার হিস্যা ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ৬ ও ৭ দশমিক ১ শতাংশ।
১৫ বছর পর চিত্রটি পুরোপুরি বদলে গেছে। ২০২৫ সালে ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে শীর্ষে উঠে আসে অ্যাপল। ১৯ দশমিক ১ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে স্যামসাং। তালিকার পরের তিনটি অবস্থানে রয়েছে চীনা ব্র্যান্ড শাওমি, ভিভো ও অপ্পো; তাদের বাজার হিস্যা যথাক্রমে ১৩ দশমিক ১, ৮ দশমিক ২ ও ৮ দশমিক ১ শতাংশ।
এই সময়ে শীর্ষ পাঁচে টিকে থাকা একমাত্র পুরোনো ব্র্যান্ড অ্যাপল ও স্যামসাং। প্রিমিয়াম পণ্য, নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অ্যাপল বাজারে অবস্থান শক্ত করেছে। অন্যদিকে অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক বিভিন্ন মডেল ও দামের ফোনের মাধ্যমে স্যামসাংও শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।
চীনা ব্র্যান্ডগুলোর উত্থানও বাজারের অন্যতম বড় পরিবর্তন। ২০১০ সালে শীর্ষ পাঁচে কোনো চীনা ব্র্যান্ড ছিল না। ২০২৫ সালে শাওমি, ভিভো ও অপ্পো মিলিয়ে বাজারের ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত শাওমি এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্মার্টফোন উৎপাদক।
বাজারের শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত হিস্যাও কমেছে। ২০১০ সালে তাদের দখলে ছিল মোট বাজারের ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ৬৮ দশমিক ২ শতাংশে। ফলে অন্যান্য ব্র্যান্ডের জন্যও বাজারে জায়গা তৈরির সুযোগ বেড়েছে।
ব্র্যান্ডের পরিবর্তনের পাশাপাশি স্মার্টফোনের ব্যবহারেও এসেছে বড় রূপান্তর। একসময় ই-মেইল দেখা, কল করা ও সাধারণ অ্যাপ ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকা ফোন এখন উন্নত ক্যামেরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধা, রিয়েল-টাইম অনুবাদ এবং স্মার্টওয়াচ ও অন্যান্য সংযুক্ত যন্ত্র নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
স্মার্টফোনের বাজারের এই পরিবর্তন দেখায়, প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান ধরে রাখতে উদ্ভাবন, ব্যবহারকারীর চাহিদার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানো গুরুত্বপূর্ণ।
BanglaDock