`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

এক মিনিটের পরীক্ষায় বোঝা যেতে পারে হৃদযন্ত্রের সুস্থতার ইঙ্গিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2026 ইং
এক মিনিটের পরীক্ষায় বোঝা যেতে পারে হৃদযন্ত্রের সুস্থতার ইঙ্গিত ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

শরীরচর্চা শেষ করার পর কত দ্রুত হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তা থেকে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ পদ্ধতিকে বলা হয় ‘হার্ট রেট রিকভারি’ বা এইচআরআর (HRR)। ব্যায়ামের পর প্রথম এক মিনিটে হৃৎস্পন্দন কতটা কমছে, তা পর্যবেক্ষণ করে হৃদযন্ত্রের সুস্থতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে এই পরীক্ষা দিয়ে নিশ্চিতভাবে কোনো রোগ নির্ণয় বা মৃত্যুঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না।


শারীরিক পরিশ্রমের সময় পেশিতে বেশি রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ করতে হৃদযন্ত্র দ্রুত স্পন্দিত হয়। ব্যায়াম বন্ধ করার পর হৃদস্পন্দন ধীরে ধীরে কমে আসে। এই গতি হৃদযন্ত্র এবং স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।


১৯৯৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ ব্যক্তিকে ছয় বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, যাঁদের ব্যায়ামের পর হৃৎস্পন্দন ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছিল, তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। গবেষণাটিতে এই ঝুঁকি প্রায় চার গুণ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়। তবে হৃৎস্পন্দন ধীরে কমলেই যে কারও মৃত্যুঝুঁকি নিশ্চিতভাবে বেড়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। এটি বরং বাড়তি স্বাস্থ্যপরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত হতে পারে।


এইচআরআর পরিমাপের পদ্ধতি তুলনামূলক সহজ। শরীরচর্চা শেষে হৃৎস্পন্দন মেপে তা লিখে রাখতে হবে। এরপর এক মিনিট বিশ্রাম নিয়ে আবার হৃৎস্পন্দন মাপতে হবে। প্রথমবারের পরিমাপ থেকে দ্বিতীয়বারের পরিমাপ বাদ দিলে পাওয়া যাবে এক মিনিটে হৃৎস্পন্দন কমার হার।


সাধারণভাবে, ব্যায়াম বন্ধের প্রথম মিনিটে হৃৎস্পন্দন ১৮ বিট বা তার বেশি কমাকে ভালো লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, এ সময়ে ১২ বিটের কম কমলে তা সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি সংকেত হতে পারে। তবে ব্যায়ামের ধরন, পরিমাপের পদ্ধতি, বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর ফলাফল নির্ভর করে। তাই এই সংখ্যাগুলোকে সবার জন্য প্রযোজ্য চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।


হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক হতে বেশি সময় লাগলে নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো ও সাঁতারের মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম হৃদযন্ত্রের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে নতুন ব্যায়াম শুরু করার আগে, বিশেষ করে মধ্যবয়সী ব্যক্তি বা আগে থেকে অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


ব্যায়ামের সময় বুকে ব্যথা বা চাপ, মাথা ঘোরা কিংবা অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ব্যায়াম বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। এক মিনিটের এই পরীক্ষা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিলেও এটি চিকিৎসকের মূল্যায়ন বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বিকল্প নয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত ৩ উপজেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত ৩ উপজেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী