`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

কক্সবাজারে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে, হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 11, 2026 ইং
কক্সবাজারে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে, হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

কক্সবাজারে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছেই। চলতি বছরের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ১৬৬ জনের। রোগীর চাপ বাড়ায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যাসংকট। ২০ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিটে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় অনেককে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মীর সংকট।


সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা ২ হাজার ৮৮৫ জন। শিবিরগুলোতে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১০ জন। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন বয়স্ক এবং ছয়জন শিশু।


গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৬১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উখিয়ায় ছয়জন, মহেশখালীতে নয়জন, রামুতে ছয়জন, চকরিয়ায় পাঁচজন, পেকুয়ায় দুজন এবং কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৩৩ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১১ জন।


হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের ডেঙ্গু ব্লকে রয়েছে মাত্র ১০টি শয্যা। বিপরীতে সেখানে ভর্তি আছেন ২৪ জন রোগী। শয্যা না পেয়ে অনেককে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। নারী ও শিশু মেডিসিনের ডেঙ্গু ব্লকেও একই ধরনের সংকট দেখা গেছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, শয্যার পাশাপাশি মশারি ও প্রয়োজনীয় সেবা পেতেও তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।


হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা নার্সদের কাছ থেকে সময়মতো সেবা না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত এক শিশুর বাবা ফজল করিমের ভাষ্য, প্রয়োজনের সময় নার্সদের ডাকতে বারবার যেতে হয়। এতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বাড়ছে।


হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪০-এর নিচে থাকলেও জুলাই থেকে তা বাড়তে শুরু করে। আগস্টে জেলা সদর হাসপাতালে ২০৪ জন এবং সেপ্টেম্বরে ৩২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। তবে রোগীর চাপ বাড়লেও সে অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মীর সংখ্যা বাড়েনি।


জেলা সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটের মুখপাত্র ডা. ইয়াছিন আরাফাত জানান, রোগীর চাপ বেশি থাকলেও ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য আলাদা কর্নার করা হয়েছে। জটিল অবস্থায় থাকা রোগীদের সকাল-বিকেল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়।


ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ডাবের খোসা, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব ও ছাদে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


ডা. ইয়াছিন আরাফাত বলেন, দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে ফুলহাতা জামা ও ফুলপ্যান্ট পরা এবং মশার উপদ্রব বেশি এমন এলাকায় প্রয়োজনে দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করা উচিত। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকেও মশারির ভেতরে রাখতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর মশা অন্য কাউকে কামড়ালে তার মধ্যেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীকেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বছর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ১ হাজার ২১০ জন। তাঁদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছর জেলায় শনাক্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। রোগীর বাড়তি চাপ সামাল দিতে হাসপাতালের শয্যা ও জনবল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
তাজমিন হত্যা: কক্সবাজারে কথিত প্রেমিক রাজু আটক

তাজমিন হত্যা: কক্সবাজারে কথিত প্রেমিক রাজু আটক