কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন বাড়ছে রোগীর চাপ। সীমিত শয্যা ও অবকাঠামোর মধ্যে অতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের রোগী বাড়তে থাকায় হাসপাতালের বিদ্যমান ওয়ার্ডে চাপ আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় পৃথক জরুরি ওয়ার্ডসহ পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হাসপাতালসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই লাখের বেশি মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা এই হাসপাতাল। প্রথমে ৩১ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। সম্প্রতি হাসপাতালটি ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগের কথা জানা গেছে। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শয্যার অভাবে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
১৯৮০ সালে নির্মিত ৩১ শয্যার পুরোনো ভবনটি ২০২২ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে পাশের ১৯ শয্যার সম্প্রসারিত ভবনে চলছে চিকিৎসাসেবা। সীমিত পরিসরের এই ভবনে শিশু, নারী ও পুরুষ রোগীদের একই ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে রোগীর চাপ বাড়লে শয্যাসংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
হাসপাতালে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা ও হামের রোগীদের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত এবং সংকটাপন্ন রোগীদেরও চিকিৎসা দিতে হয়। একই ওয়ার্ডে বিভিন্ন ধরনের রোগী থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মৌসুমি রোগের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে হামের রোগী বাড়তে থাকায় পৃথক ওয়ার্ডের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে প্রতিদিন রোগীদের ভিড় লেগে থাকে। অন্তর্বিভাগেও নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি। ফলে অনেককে শয্যা না পেয়ে মেঝে কিংবা বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। একই জায়গায় সাধারণ ও সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পৃথক জরুরি ওয়ার্ড না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ সীমিত। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা ও বিশেষায়িত চিকিৎসার অভাবে অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার বা চট্টগ্রামে পাঠাতে হয়। কুতুবদিয়া থেকে মূল ভূখণ্ডে যেতে নৌযানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে জরুরি অবস্থায় সময়ক্ষেপণ, বাড়তি ব্যয় ও ভোগান্তির মুখে পড়েন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত জনবল ও পৃথক জরুরি ওয়ার্ডসহ পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে দ্বীপের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়বে। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা সহজ করা জরুরি বলে মনে করেন তাঁরা।
এদিকে শয্যাসংকট নিরসনে অস্থায়ী ওয়ার্ড নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মারুফ। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সময় লাগতে পারে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যমান ওয়ার্ডের পাশের খালি জায়গায় একটি অস্থায়ী ওয়ার্ড নির্মাণ করা হলে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসাসেবার সংকট কিছুটা কমবে।
তিনি আরও বলেন, সীমিত জনবল ও অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, অস্থায়ী ওয়ার্ড নির্মাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
BanglaDock