`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

কক্সবাজার সৈকতে পাঁচ টন প্লাস্টিকে তৈরি ‘দানব’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 13, 2026 ইং
কক্সবাজার সৈকতে পাঁচ টন প্লাস্টিকে তৈরি ‘দানব’ ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নির্মাণ করা হয়েছে ব্যতিক্রমী ভাস্কর্য ‘প্লাস্টিক দানব’। সমুদ্রদূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরা এবং পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশসচেতনতা বাড়াতে পাঁচ টন প্লাস্টিক দিয়ে ভাস্কর্যটি তৈরি করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।


বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রদর্শনী চলবে চার মাস। এ সময় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সমুদ্রদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।


প্রদর্শনীর পাশাপাশি সৈকতে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বিশেষ থিয়েটার। সেখানে দায়িত্বশীল পর্যটন নিয়ে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র দেখানো হবে। চলচ্চিত্রটি দেখার প্রবেশমূল্য হিসেবে দর্শনার্থীদের সঙ্গে আনতে হবে দুটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল। এর মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সমুদ্র প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু মানুষের অসচেতনতার কারণে প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্র ও সৈকতের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে। এ ধরনের উদ্যোগ দূষণের ভয়াবহতা দৃশ্যমান করে তুলবে এবং মানুষকে নিজেদের আচরণ পরিবর্তনে উৎসাহিত করবে। কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, মানুষ প্রায়ই সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করলেও সেটিকে দূষিত করার পেছনে নিজেদের ভূমিকার কথা ভুলে যায়। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এই ভাস্কর্য মানুষের অসচেতনতার প্রতিচ্ছবি। ভাস্কর্যটি দেখে দর্শনার্থীরা যেন নিজেদের ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সমুদ্রের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে ভাবেন, সেটিই তাঁদের উদ্দেশ্য।


আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা জানান, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সারা বছর ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ স্টোর’-এর মাধ্যমে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে। এসব প্লাস্টিকের বিনিময়ে মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।


এই কার্যক্রমে সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ‘প্লাস্টিক দানব’ ভাস্কর্যটি। এটি প্লাস্টিক দূষণের দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। পাশাপাশি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের বার্তা ছড়িয়ে দেবে ভাস্কর্যটি।


চার মাসব্যাপী প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে কক্সবাজারে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
টেকনাফে ডাকাত সাদ্দাম গ্রুপের সদস্য হামিদ গ্রেপ্তার

টেকনাফে ডাকাত সাদ্দাম গ্রুপের সদস্য হামিদ গ্রেপ্তার