সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম এবং তিনি বাবার পরিচয়ে ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সহসম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি। গেন্ডারিয়া এলাকায় অস্ত্র হাতে তাঁর মাদকবিরোধী অভিযানকে অভিজ্ঞতার অভাব থেকে নেওয়া ‘খামখেয়ালি’ সিদ্ধান্ত বলেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন নিলোফার চৌধুরী মনি।
গেন্ডারিয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে ইশরাকের লাইসেন্স করা অস্ত্র সঙ্গে রাখা আইনত ঠিক হলেও একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে এ ধরনের অভিযান চালানো সমীচীন হয়নি। সাধারণ মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করা কোনো মন্ত্রীর কাজ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, বাবা সাদেক হোসেন খোকার পরিচয়ে রাজনীতিতে আসায় ইশরাকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে।
ইশরাক কোনো কুচক্রী মহল বা পরামর্শদাতার উসকানিতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন নিলোফার চৌধুরী। তাঁর মতে, মাদকসেবীদের পেছনে অস্ত্র উঁচিয়ে সময় ব্যয় না করে মাদকের মূল হোতা ও সরবরাহকারী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন নিলোফার চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির পদত্যাগের সিদ্ধান্ত একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে নিলোফার চৌধুরী আরও বলেন, ঢাকা শহরের রাজনীতিতে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে ইশরাক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম এবং তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল সিটি করপোরেশন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহানুভূতিশীল অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে এবং আগামী নির্বাচনে সুবিধা নিতে ইশরাককে উসকানি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
দেশে মাদক সমস্যার ব্যাপকতা তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, মাদক এখন বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা। তৃণমূল থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও আমলার নেপথ্য সহযোগিতার কারণে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়েছে।
BanglaDock