বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকলেও সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় তাঁর নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া অধিকাংশ দায়িত্ব পালনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।
রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হলো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত, হ্রাস বা মার্জনা করার ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি ক্ষমা বা কমাতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও রয়েছে সাংবিধানিক দায়মুক্তি। তাঁর কার্যকাল চলাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তাঁকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য পরোয়ানাও জারি করা যায় না। তবে সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাঁকে অপসারণের সুযোগ রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তিনি সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারান এবং তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যায়।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী নির্বাচিত হন।
রাষ্ট্রপতির পদটির আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা আয়করমুক্ত। রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। বাসভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়।
সরকারি গাড়ি ও পরিবহন সুবিধার পাশাপাশি বিদেশ সফরে নির্ধারিত হারে ভাতা পান রাষ্ট্রপতি। আপ্যায়নের জন্য রয়েছে বার্ষিক ভাতা। এছাড়া রাষ্ট্রপতির স্বেচ্ছাধীন তহবিলে বছরে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে, যা তাঁর বিবেচনায় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তায় ব্যয় করা যায়।
রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা রয়েছে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিদেশে চিকিৎসার ব্যয়ও সরকার বহন করে। বিমানভ্রমণের জন্য রাষ্ট্রপতির বছরে ২৭ লাখ টাকার বিমাসুবিধাও রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ হলেও সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা। ফলে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও সরকারপ্রধান নন। সংসদে কোনো দলের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে; তবে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে তাঁর বিবেচনামূলক ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকে।
BanglaDock