তারকাদের বিয়ে, প্রেম ও সম্পর্ক নিয়ে মানুষের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিয়ের পাশাপাশি একের পর এক বিচ্ছেদের খবরও আলোচনায় আসছে। প্রতিটি বিচ্ছেদের খবর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হচ্ছে নানা আলোচনা ও জল্পনা। সর্বশেষ আলোচনায় এসেছে সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মুনিরা হাশেমের বিচ্ছেদের খবর। ৪ অক্টোবর রাতে যৌথ বিবৃতিতে তারা বিচ্ছেদের বিষয়টি জানান। প্রায় ১০ বছরের সম্পর্কের মধ্যে চার বছর সংসার করেছিলেন তারা।
চলতি বছরই বিচ্ছেদের খবর দিয়ে আলোচনায় আসেন তাহসান খান ও রোজা আহমেদ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিয়ে করা এই দম্পতির বিচ্ছেদের বিষয়টি তাহসান নিজেই নিশ্চিত করেন। এর আগে তাদের সম্পর্ক নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নানা গুঞ্জন চলছিল। তবে বিচ্ছেদের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ্যে আনেননি তিনি।
২০২৬ সালের মার্চে বিচ্ছেদের পথে হাঁটার খবর আসে অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ ও নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানার। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিয়ে করেছিলেন তারা। বিচ্ছেদের খবর নিশ্চিত করে মৌসুমী জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার মতো অবস্থায় তিনি নেই।
২০২৫ সালেও শোবিজে একাধিক বিচ্ছেদের ঘটনা সামনে আসে। ওই বছরের জুনে সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কণা ও গোলাম মোহাম্মদ ইফতেখারের ছয় বছরের সংসারের ইতি ঘটে। বছরের শেষ দিকে সংগীতশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার বিচ্ছেদের খবরও প্রকাশ্যে আসে। ২০১৮ সালে আইনজীবী সানাউল্লাহ নূর সাগরকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সালমা। একই বছর অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু ও সংবাদপাঠিকা মমরেনাজ মোমোর বিচ্ছেদের খবরও প্রকাশ্যে আসে।
এর আগে ২০২৪ সালে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও রকিব সরকারের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের খবর আসে। একই বছরের জুলাইয়ে প্রায় সাড়ে নয় বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানেন অভিনেতা আরিফিন শুভ ও অর্পিতা সমাদ্দার। এছাড়া পরীমণি ও শরিফুল রাজের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আলাদা থাকার বিষয়টিও ওই সময়ে নতুন করে আলোচনায় আসে।
শোবিজে বিচ্ছেদের তালিকা অবশ্য আরও দীর্ঘ। তাহসান-মিথিলা, নোভা-রায়হান, হাবিব-রেহান, শখ-নিলয়, বাঁধন-সনেট, হৃদয় খান-সুজানা ও মিলা-পারভেজ সানজারির মতো আলোচিত জুটির সংসারও বিভিন্ন সময়ে ভেঙেছে। ফলে বিয়ে ও বিচ্ছেদ তারকাদের ব্যক্তিজীবনের আলোচিত অংশে পরিণত হয়েছে।
মনোবিশ্লেষকদের মতে, তারকাদের বিচ্ছেদের খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করতে পারে। নিউইয়র্কভিত্তিক সাইকোথেরাপিস্ট ক্যাথরিন শেফলারের মতে, মানুষ অনেক সময় তারকাদের নিখুঁত জুটি হিসেবে দেখে এবং মনে করে, ভালোবাসা থাকলেই সম্পর্ক টিকে যায়। সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে নিজেদের সম্পর্ক নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তার মতে, ভালোবাসার পাশাপাশি কার্যকর যোগাযোগ, প্রতিশ্রুতি, আর্থিক ঘনিষ্ঠতা ও আস্থাও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও ব্রেকআপ কোচ ড. আন্দ্রিয়া লাইনারের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তারকা ও ভক্তদের মধ্যে ‘প্যারাসোশ্যাল’ বা একপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। তারকারা মানুষের কাছে সাফল্য, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক হয়ে ওঠেন। ফলে তাদের সম্পর্ক ভেঙে গেলে অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়—এত সাফল্যের পরও যদি সম্পর্ক টেকে না, তাহলে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক কতটা নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। সামনাসামনি কথাবার্তার বদলে অনেক সম্পর্কেই এখন মেসেজিং অ্যাপ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। রাগের সময় পাঠানো বার্তা, পুরোনো ছবি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট পরবর্তীতে নতুন করে সম্পর্কের ক্ষত উসকে দিতে পারে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাজানো ও পরিমার্জিত জীবন দেখে নিজের দাম্পত্যের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতাও অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি করছে। ভার্চুয়াল জগতে অবাধ যোগাযোগের কারণে অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এসব কারণ মিলেই আধুনিক সময়ে সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
BanglaDock