বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের পর্যটন নগরী কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হোটেল দ্য কক্সটুডের সামনের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায়। এতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটক, হোটেল অতিথি ও স্থানীয় পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সড়কটির সমস্যা ও জলাবদ্ধতার বিষয়টি একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও দীর্ঘদিনেও সংস্কার বা স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
হোটেল দ্য কক্সটুডের এজিএম আবু তালেব জানান, প্রায় এক বছর ধরে হোটেলের সামনের সড়কের বেহাল দশা ও জলাবদ্ধতার কারণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কক্সবাজারে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ প্রত্যাশা করেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই হোটেলের সামনে পানি জমে যাওয়ায় তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক পর্যটক সড়কের এমন বেহাল অবস্থা দেখে হতাশা প্রকাশ করেন। কেউ কেউ কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন। সড়কটির সমস্যা সমাধানে কক্সবাজার পৌরসভাকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও দীর্ঘদিনেও সংস্কার কিংবা জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবু তালেব আরও বলেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত সব ধরনের সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে আসছে। অথচ পর্যটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের এমন দুরবস্থা পর্যটন শিল্পের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে শুধু একটি হোটেল নয়, পুরো পর্যটন খাত উপকৃত হবে। পর্যটকদের যাতায়াত ব্যবস্থা ও পরিবেশ ভালো হলে হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ও গতি আসবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।
হোটেলে অবস্থানরত এক পর্যটক বলেন, হোটেলটির সেবার মান ও পরিবেশ ভালো হলেও সামনের সড়কের করুণ অবস্থা হতাশাজনক। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। এ জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা যায় না; পর্যটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা হলেও এখানকার কিছু সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বিশেষ করে বর্ষার সময় সড়কে পানি জমে যাওয়ায় পথচারী ও যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়।
তাদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা কক্সবাজারে আসেন। তাই পর্যটন এলাকার অবকাঠামো, সড়ক ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একটি গুরুত্বপূর্ণ হোটেলের সামনের সড়কের দীর্ঘদিনের দুরবস্থা পর্যটকদের কাছে কক্সবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সড়কটি সংস্কার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কক্সবাজার পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, পর্যটননির্ভর কক্সবাজারের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করতে হোটেল-মোটেল জোনের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
BanglaDock