বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও নানা কারণে অনেক সময় বিবাহ নিবন্ধন করা হয় না। পরে স্বামী বিয়ের সম্পর্ক অস্বীকার করলে স্ত্রী দেনমোহর, ভরণপোষণ ও সন্তানের অধিকার আদায়ে জটিলতার মুখে পড়তে পারেন। তবে বিয়ের নিবন্ধিত কাবিননামা না থাকলেই যে বিয়ে প্রমাণের আর কোনো উপায় নেই, বিষয়টি এমন নয়। বিয়ের ছবি, সাক্ষী এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ আদালতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ধরা যাক, এক নারী ও পুরুষ মুসলিম রীতিতে বিয়ে করেছেন এবং তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। কয়েক বছর পর স্বামী স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াই আরেকটি বিয়ে করেন। একই সঙ্গে স্ত্রীকে দেনমোহর ও ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে বিয়ের নিবন্ধিত কাবিননামা না থাকার সুযোগ নিয়ে বিয়ের সম্পর্ক অস্বীকার করে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এমন পরিস্থিতিতে ওই নারী বিয়ের সময়ের ছবি, বিয়ে পড়ানো কাজির সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে নিজের বিয়ের বিষয়টি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারেন।
বিয়ে নিবন্ধন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী মুসলিম বিয়ে নিবন্ধনের বিধান রয়েছে। ভবিষ্যতে দাম্পত্য সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে নিবন্ধিত কাবিননামা গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এর মাধ্যমে দেনমোহর, ভরণপোষণসহ বিভিন্ন পারিবারিক অধিকার প্রতিষ্ঠা তুলনামূলক সহজ হয়। সন্তানের পিতৃত্ব ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আইনে বিয়ে নিবন্ধনের বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে। তবে বিয়ে নিবন্ধিত না হওয়ার অর্থ এই নয় যে, বিয়েটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। বিয়ের বৈধতা নির্ধারণে প্রযোজ্য আইন ও বিয়ের সময়কার পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়।
ছবি দিয়ে কি বিয়ের প্রমাণ দেওয়া সম্ভব?
বিয়ের ছবি আদালতে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে। তবে শুধু ছবি থাকলেই সব ক্ষেত্রে বিয়ে প্রমাণিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ছবির পাশাপাশি বিয়ে পড়ানো কাজি, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাক্ষী এবং বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি ও তথ্য আদালতের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অর্থাৎ, নিবন্ধন না থাকলে বিয়ে প্রমাণে জটিলতা বাড়তে পারে, তবে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে বিয়ের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকতে পারে।
দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায়ে কী করবেন?
স্বামী বিয়ের সম্পর্ক অস্বীকার করলে স্ত্রী নিজের ও সন্তানের প্রাপ্য অধিকার আদায়ে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী পারিবারিক আদালতে দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিয়ের সম্পর্ক ও দাবির পক্ষে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। মামলা দায়েরের পর আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ বিবেচনা করে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেবেন।
বিয়ের পর যে বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি
বিয়ের নিবন্ধনকে অবহেলা করা উচিত নয়। ভবিষ্যতে দাম্পত্য বিরোধ দেখা দিলে নিবন্ধিত কাবিননামা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে আসে। তাই বিয়ের সময় যথাযথভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করা এবং কাবিননামার কপি সংরক্ষণ করা জরুরি।
কোনো কারণে নিবন্ধন না হয়ে থাকলে বিয়ের ছবি, সাক্ষীদের তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যত্ন করে রাখা উচিত। এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে নিজের ও সন্তানের অধিকার রক্ষায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
BanglaDock